মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

কাহারোল উপজেলা দিনাজপুর জেলার অধীনে গঠিত ছোট একটি উপজেলা যা বৃটিশ শাসন আমলে ১৯১৫ সালে থানা হিসেবেগঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলা ঘোষিত হয়। এ উপজেলা মোট ৬টি ইউনিয়ন, ১৫৩টি মৌজা, ১৫২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। উপজেলার নামকরনের সঠিক ইতিহাস জানা যায় নাই। তবে জনশ্রুতি রয়েছে যে, এখানে অনেকদিন আগে ‘‘কাহার’’ নামে একটি আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করত। তারা সন্ধ্যে বেলায় একত্রে গান করত যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘‘রোল’’ বলা হতো। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ‘কাহার’ এবং ‘রোল’ এই দু’টি শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে কাহারোল উপজেলার নাম।

 

কাহারোল উপজেলাটি দিনাজপুর জেলার একটি অবহেলিত উপজেলা। কিন্তু এখানে ছিল গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, মাঠ ভরা শস্যের ছড়াছড়ি। উপজেলাটি আকারে ছোট হলেও সব ধর্মের মানুষ এখানে বসবাস করে।

মুসলমানরা মসজিদ, হিন্দুরা মন্দিরে উপাসনা করে। ধর্মের নামে গোড়ামী খুব একটা দেখা যায় না। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সহ-অবস্থান করে শান্তিতে বসবাস করে যা সমাজে সহণশীলতার সাক্ষ্য বহণ করে।

সকল মানুষের ভাষা বাংলা হলেও এ অঞ্চলের কথ্য বাংলার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন ‘‘মুই খাভে নাউ’’ অর্থাৎ আমি ভাত খাব না। এখানে ‘মুই’(আমি) শব্দটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কথ্য বাংলার সাথে সংগতি রক্ষা করেছে। ‘খাভে’(খাব) শব্দটি খাব শব্দের ‘ব’ বর্ণটি বর্ণচ্যুত হয়ে ‘ভ’ বর্ণে রূপ নিয়ে এখানকার আঞ্চলিক কথ্য ভাষার রূপটি পরিগ্রহ হয়েছে। আর ‘নাউ’ শব্দটি শুদ্ধ ‘না’ শব্দের সাথে অতিরিক্ত ‘উ’ বর্ণটি যুক্ত হয়ে কথ্য বাংলার রূপটি এ অঞ্চলের আপন সত্ত্বার আবহমান কাল ধরে বাহন হয়ে চলে আসছে।